প্রযুক্তির উৎকর্ষতা হাইব্রিড গাড়ি
ব্যক্তিগত গাড়ি এখন শুধু শখের বিষয় নয়, এর প্রয়োজনীয়তাও কম নয়।
ব্যক্তিগত গাড়ি আবার অনেকের রোজগারের উপায়ও বটে।
এই গাড়িগুলো ঘুরেফিরে ব্যবহৃত হচ্ছে রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবায়।
নিজের কাজেও গাড়ি মিলল, আবার বাড়তি উপার্জনও।
এখন নতুন গাড়ি কেনার আগে দুটি প্রশ্ন মাথায় আসে।
নিউ না রিকন্ডিশন্ড? হাইব্রিড নাকি নন-হাইব্রিড? জ্বালানিসাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হিসেবে সারা পৃথিবীতেই হাইব্রিড জনপ্রিয়।
হাইব্রিড গাড়ির সুবিধা এবং অসুবিধা জানাতে আজকের এই ব্লগ পোষ্ট :
হাইব্রিড গাড়ি কী ?
জ্বালানিসাশ্রয়ী
:
পরিবেশবান্ধব
:
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে প্রতিনিয়ত পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
নগরীতে বাড়ছে দূষণ।
গাড়ির কালো ধোঁয়াও এর জন্য দায়ী।
হাইব্রিড গাড়ি যখন ব্যাটারি শক্তিতে পরিচালিত হয়, তখন ইঞ্জিন বন্ধ থাকে।
গাড়ি থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইডও কম নির্গত হয় হাইব্রিড গাড়িতে।
এতে পরিবেশদূষণের হার কমে।
দেশে জ্বালানিসাশ্রয়ী হিসেবে হাইব্রিড গাড়ি জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও সারা পৃথিবীতে পরিবেশবান্ধব হিসেবেই এই গাড়িগুলো স্বীকৃত।
যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব বাড়ে :
হাইব্রিড গাড়ি ব্যাটারিতে চলার সময় ইঞ্জিন বন্ধ থাকার কারণে ইঞ্জিন অয়েল, অয়েল ফিল্টার এবং এয়ার ফিল্টারও ব্যবহৃত হয় না।
এতে এই যন্ত্রাংশগুলোর আয়ু বেড়ে যায়।
নন-হাইব্রিড গাড়িতে এই যন্ত্রাংশগুলো তিন হাজার কি:মি: পরপর বদলাতে হলেও হাইব্রিড গাড়িতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কিমি পর্যন্ত অনায়াসে ব্যবহার করা যায়।
কমবে খরচ :
হাইব্রিড গাড়িতে জ্বালানি কম খরচ হওয়ার কারণে তেল কেনার খরচ কমে যায়। জ্বালানির সঙ্গে সম্পর্কিত গাড়ির যেসব যন্ত্রাংশ রয়েছে, সেগুলোও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়। গাড়িকে তখন আর হাতি মনে হয় না। হাইব্রিড গাড়ি ক্রেতার গাড়িসংক্রান্ত খরচকে কমিয়ে দেয়।
রূপান্তরের ঝামেলা নেই :
নন-হাইব্রিড গাড়ির জ্বালানি খরচ বাঁচাতে সিএনজি বা এলপিজিতে রূপান্তর করা হয়ে থাকে। হাইব্রিড গাড়িতে বিকল্প শক্তি হিসেবে ব্যাটারি ব্যবহৃত হওয়াতে এই সব গাড়িকে রূপান্তরের ঝামেলা নেই । নেই লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নেওয়ার প্রতিযোগিতা। রূপান্তরের খরচটাও বেঁচে যায়। অটোমোবাইল নির্মাতারা যেভাবে গাড়ি তৈরি করে, সেভাবেই গাড়ি চলাতে ইঞ্জিনও হয় দীর্ঘস্থায়ী ।
শুধু বিদ্যুতে চালানোর সুবিধা :
হাইব্রিড গাড়িগুলোর মধ্যে একধরনের গাড়ির নাম প্লাগ ইন হাইব্রিড (পিএইচইভি)। এই গাড়িগুলো শুধু ব্যাটারির সাহায্যেই চালানো সম্ভব। পিএইচইভি গাড়িগুলোতে আলাদা করে ব্যাটারি চার্জ করার অপশন দেওয়া থাকে। বাসাবাড়ি থেকেই গাড়িগুলোকে চার্জ করা যায়। পরিপূর্ণ চার্জে পিএইচইভি ঘরানার গাড়ি ৩০ থেকে ৪০ কিমি রাস্তা জ্বালানি খরচ না করেই চলতে পারে।
হাইব্রিড গাড়ি এখন সময়ের দাবি।
যুগের সঙ্গে সঙ্গে দেশের মানুষও হাইব্রিড গাড়িতে দ্রুত অভ্যস্ত হবেন বলে আমরা আশাবাদী।
ব্র্যান্ড নিউ এবং রিকন্ডিশন্ড উভয় ক্যাটাগরিতে হাইব্রিড গাড়ি দেশের বাজারে পাওয়া যায়।
ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির ক্ষেত্রে বিএমডব্লিউ, টয়োটা, মিতসুবিশি এবং সুজুকির হাইব্রিড গাড়ি রয়েছে।
রিকন্ডিশন্ড বাজারে প্রায় প্রতিটি জাপানি অটোমোবাইল নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে হাইব্রিড গাড়ি পাওয়া যায়
। বাংলাদেশে টয়োটা অ্যাকুয়া, এক্সিও, প্রিয়াস, নোয়াহ, আলফার্ড, ভেলফায়ার, এসকোয়ার, কেমরি, সিএইচআর, হোন্ডা ভেজেল, গ্রেস, নিসান এক্সট্রেইলসহ বেশ কয়েকটি মডেলের হাইব্রিড গাড়ি পাওয়া যায়।
গাড়ির কোয়ালিটির ওপর নির্ভর করে গাড়িগুলোর মূল্য ১৩ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা হয়ে থাকে।









No comments