নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক,প্রতিপক্ষ নয়।
ইসলামে নারী-পুরুষের কর্তব্য ও দায়িত্ব অনেকটাই এই ফুটবলের ফর্মেশানের মত। নারীর দায়িত্ব এক, পুরুষের দায়িত্ব এক। কিন্তু কারো দায়িত্ব একইরকম নয়। দুজনের দায়িত্ব একই ধরনের নয়। কিন্তু ওজন করতে গেলে কারো দায়িত্ব কারো চাইতে কম নয়। একজন পুরুষ বা নারী যদি বলে তাদেরকে সমান দায়িত্ব বা অধিকার দেয়া হয়নি তাই তারা কাজ করবেনা, তাহলে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হতে বাধ্য। ফুটবলের একেকজন খেলোয়াড় একেকজনের পরিপূরক। কোন দলই চায়না একজনও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ুক। গোলকীপারের কাজ স্ট্রাইকারের মত না। স্ট্রাইকারের কাজ গোলকীপারের মত না। কিন্তু একজনের কাজ আরেকজনকে দিয়ে হবেনা। কল্পনা করুন তো, গোলকীপার সাহেব ফাউল করে লাল কার্ড খেয়ে মাঠ ছাড়ছেন। তাহলে বেচারা ফরোয়ার্ডের কি অবস্থা হবে?
আবার ভেবে দেখুন, দুইজন স্ট্রাইকার কিংবা ৪ জন ডিফেন্ডার লাল কার্ড খেয়ে বেরিয়ে গেছেন, অবস্থাটা কি হবে খেলার? গোলকীপার সাহেব, যিনি নিজেকে দায়িত্বহীন আর বঞ্চিত ভাবতেন, এখন তার অবস্থা ও দায়িত্ব কি হবে?
ইসলামেও তেমনি নারীর কাজ আর পুরুষের কাজ পরস্পর পরিপূরক। নারী যদি তার নির্ধারিত কাজে “সমঅধিকার” লঙ্ঘিত হচ্ছে, এই অজুহাতে কাজ কর্মে ইস্তফা দিয়ে বসেন, কিংবা পুরুষ যদি “বেশি দায়িত্ব চলে এসেছে” বলে ঘরে বসে থেকে বউকে বাইরে পাঠিয়ে দেন, তবে অবস্থা হবে এই ফুটবল টীমের মত। হ য ব র ল।
‘সমফুটবলাধিকার’ এর নাম করে ইকার ক্যাসিয়াসকে যদি ফরোয়ার্ডে পাঠিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে গোললাইনে দাঁড় করিয়ে গোল বাঁচাতে দেয়া হয়, তবে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচের ফলাফল কি হবে, তা সহজে অনুমেয়। তেমনি সমঅধিকারের নাম করে নারীর কাজ পুরুষকে করানো আর পুরুষের কাজ নারীকে করানোটাও হবে দায়িত্ব-সংকটের কারণ। এই ধরনের অদূরদর্শী দায়িত্ব বণ্টনের ফলে ফুটবল টীমের যেমন দফারফা অবস্থা হয়ে যাবার কথা, তেমনি আল্লাহ্ কর্তৃক নারী-পুরুষের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে অদূরদর্শিতার সাথে EXCHANGE করা হলে, পারিবারিক, সামাজিক তথা গোটা পার্থিব জীবনেই বিপর্যয় নেমে আসতে বাধ্য।
ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে নারী-পুরুষের দায়িত্ব বন্টন আসলে ফুটবল টীমের মতই। এখানে একজনের দায়িত্বের সাথে অন্যের দায়িত্বের তুলনা চলেনা। বোকার মত দেখতে চাইলে একজনের দায়িত্ব ও অধিকার আরেকজনের চাইতে কম বলে মনে হতে পারে, কিন্তু কারো দায়িত্ব কমিয়ে দিয়ে আরেকজনের দায়িত্ব বাড়িয়ে দিলে কিংবা একজনের দায়িত্ব আরেকজনকে দিয়ে EXCHANGE করে দেখতে গেলেই বোঝা যায় প্রত্যেকের দায়িত্ব আসলে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামে একজন নারীর দায়িত্ব,একজন পুরুষের দায়িত্বকে পূর্ণতা দান করে। যেটা নারীর কাজ নয়, সেটা নারীকে করতে দিলে, কিংবা যেটা পুরুষের কাজ নয়, সেটা পুরুষকে করতে দিলে হিজিবিজি লেগে যেত বাধ্য। হ্যাঁ, অনেকেই বলতে পারেন যে এমন অনেক গোলকীপার আছেন যারা গোল করেছেন। হুম। কথা সত্য। কিন্তু ফুটবল ইতিহাস নিজেই বলে এইসব উদাহরণ হল বিচ্ছিন্ন উদাহরণ। মানুষ শুধুমাত্র “সাধারণ জ্ঞান” এর অংশ হিসেবেই এইসব গোলকীপারকে মনে রাখে। কিন্তু এত এত গোলকীপার গোল স্কোর করা স্বত্বেও আজ পর্যন্ত গোলকীপারের দায়িত্ব গোল বাঁচানোই রয়ে গেছে। স্ট্রাইকিং এ দেয়া হয়নি। তাই অনেক সময় আমরা নারীদের পুরুষদের সাথে মেলামেশা করে পুরুষদের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করতে দেখলেও সেটা কখনই নারী-পুরুষের অধিকার EXCHANGE এর কারণ হতে পারেনা। গোলকীপারের মতই নারীর দায়িত্ব নারীর কাছেই থাকবে। এটাই আল্লাহ্ প্রদত্ত ফিতরা।
তাই যতদিন নারী-পুরুষ তাদের একে অপরের পরিপূরক হিসেবে না দেখে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখবে, ইসলাম বিদ্বেষীরা তার সুযোগ নিয়ে তাদের কানে ‘সমঅধিকার’ নামক বিষ ঢালতে থাকবে, যা ধীরে ধীরে জন্ম দেবে এক লাগামহীন সমাজের, যা নারীর জন্যে কিংবা পুরুষের জন্যে, কারো জন্যেই কল্যান বয়ে আনবেনা।
ডাঙার প্রাণীকে পানিতে ফেলে, জলের প্রাণীকে ডাঙায় তুলে আনলে সাময়িক উথালপাথালের পরে উভয় প্রাণীই ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যায়।
আল্লাহ্ আমাদের হিদায়াত দান করুন।
