ভালো অভিভাবক হতে চান? পজিটিভ পেরেন্টিংয়ের টিপস জেনে নিন
সন্তানকে ভালো শিক্ষা দিতে আমরা সবাই চাই। কিন্তু ভালো অভিভাবক হওয়া সহজ নয়। কারণ তার জন্য নিজেকেও অনেক বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ভালো অভিভাবক হওয়ার কয়েকটি টিপস এখানে আলোচনা করা হল।
বাচ্চাদের শক্তির সন্ধান করুন
প্রশংসা করুন, পুরস্কার দিন, শাস্তি নয়
অভিভাবক যখন কোনও কাজের জন্য সন্তানের প্রশংসা করেন বা তাদের পুরস্কৃত করেন, তা হলে সেটি তাদের উৎসাহিত করে। বাচ্চাদের উৎসাহিত করলে, তারা নিজে থেকেই নিজের ভুলগুলি ধরতে শুরু করবে। এর ফলে ইতিবাচক পদ্ধতিতে তাদের ভুল শুধরানোর কাজ করতে পারবেন।
সন্তানের রাগ বা ঠাট্টায় আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া জানাবেন না
বাচ্চা রেগে গেলে বা কোনও অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন কথা বলে বসলেও, কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। এর ফলে বাচ্চারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে ও আপনার কথাও মনোযোগ সহকারে শুনবে।
দুই সন্তানের মধ্যে তুলনা করবেন না
দুই সন্তানের অভিভাবক হওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয়। এ ক্ষেত্রে দুই সন্তানের প্রতিই সমান মনোভব পোষণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কাউকে কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না বা ভেদাভেদ সৃষ্টি হতে পারে এমন কিছু বলে বসবেন না। উভয়কেই এক সমান ভালোবাসুন ও যত্ন দিন।
লাগাতার সহযোগিতা করে যান
বর্তমানে বাচ্চাদের সমস্ত মনঃস্থিতি বুঝে ওঠা কঠিন হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিতে পারেন।
ইতিবাচক কথা বলুন
সন্তান মা-বাবার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলতে চায়। তাই, তাদের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলুন। এতে ভালোবাসা ও যত্ন উভয়েরই ছোঁয়া থাকে, সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। শুধু কথা বলার জন্য কথা বলবেন না, বরং ইতিবাচক ব্যবহারের সঙ্গে তাদের সময় দিন।
ইন্টারনেটে সঠিক ব্যবহারের প্রতি নজর রাখুন
আজকাল সমস্ত বাচ্চাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। তবে বাচ্চারা এখানে কী দেখছে, কী সার্চ করছে, সে সবের প্রতি নজর রাখা উচিত।
ভারসাম্য বজায় রাখুন
বাচ্চাদের চাহিদা পূরণ করতে করতে অভিভাবকরা নিজের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে উঠতে পারেন না। পরবর্তীকালে এ কারণে অভিভাবকরা রেগে যান এবং সেই রাগ গিয়ে পড়ে সন্তানের ওপর। এর ফলেও সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বাচ্চার ও নিজের চাহিদা, আশা-আকাঙ্খা পূরণের মধ্যে ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।
বাচ্চার রোল মডেল আপনিই
বাচ্চারা যে হেতু মা-বাবার ব্যবহারই অনুসরণ করে, তাই ভুলেও বাচ্চাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করবেন না বা এমন কোনও কথা বলে বসবেন না, যা আপনারা নিজেরাই বাচ্চাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন না। তাই বাচ্চাদের জন্য রোল মডেল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পরাজয় স্বীকার করবেন না
সন্তানের প্রতি নিজের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা কখনও ত্যাগ করবেন না। সন্তানের তরফে কোনও বিপরীত পরিস্থিতির মুখে পড়লেও, তাদের সঠিক পথে আনার চেষ্টা করে যান। পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
.jpg)