Header Ads

ভালো অভিভাবক হতে চান? পজিটিভ পেরেন্টিংয়ের টিপস জেনে নিন


সন্তানকে ভালো শিক্ষা দিতে আমরা সবাই চাই। কিন্তু ভালো অভিভাবক হওয়া সহজ নয়। কারণ তার জন্য নিজেকেও অনেক বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। ভালো অভিভাবক হওয়ার কয়েকটি টিপস এখানে আলোচনা করা হল।

 

পেরেন্টিং টিপস

মা-বাবা হওয়া যে কোনও ব্যক্তির জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। তবে সন্তানের লালন-পালন সন্তান মানুষ করা অত্যন্ত দায়িত্বের কাজ। বর্তমানে সন্তান লালন-পালনে নানান জটিলতা দেখা দিচ্ছে। শুধু ভালো মা-বাবা হয়েই নিজের দায়িত্ব পূরণ করলে হবে না, পাশাপাশি সন্তানের ওপর নজরদারিও চালাতে হবে। ছোটবেলার শিক্ষা সারা জীবন মনে থাকে। সন্তানের মানসিক অবস্থা বুঝে তাদের চিন্তাভাবনা উন্নত করা, ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা ভালো অভিভাবকদের লক্ষণ। শুধু সন্তানের চাহিদা প্রয়োজনীয়তা পূরণ করলেই হবে না, বরং জীবনে ভারসাম্যের গুরুত্বও বোঝাতে হবে তাদের। ইতিবাচক লালন-পালন বা পজিটিভ পেরেন্টিং কী ভাবে করবেন, সে বিষয় জানানো হল এখানে

 

বাচ্চাদের শক্তির সন্ধান করুন

বাচ্চাদের মধ্যে আত্মসম্মান বোধ জাগিয়ে তোলার জন্য তাদের শক্তি প্রতিভা খুঁজে বার করা অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে বাচ্চার সঙ্গে জড়িত নানান সমস্যার সমাধান সম্ভব। অভিভাবক যখন সন্তানকে অপমানিত না-করে বা ভয় না-দেখিয়ে কিছু বলেন, তখন তারা সেটি শুনতে বুঝতে ভালোবাসে। তাই সন্তানের শক্তি প্রতিভা বুঝে সেই অনুযায়ী বাচ্চাদের ব্যবহার পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত।

প্রশংসা করুন, পুরস্কার দিন, শাস্তি নয়

অভিভাবক যখন কোনও কাজের জন্য সন্তানের প্রশংসা করেন বা তাদের পুরস্কৃত করেন, তা হলে সেটি তাদের উৎসাহিত করে। বাচ্চাদের উৎসাহিত করলে, তারা নিজে থেকেই নিজের ভুলগুলি ধরতে শুরু করবে। এর ফলে ইতিবাচক পদ্ধতিতে তাদের ভুল শুধরানোর কাজ করতে পারবেন।

সন্তানের রাগ বা ঠাট্টায় আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া জানাবেন না

বাচ্চা রেগে গেলে বা কোনও অপ্রয়োজনীয়, অর্থহীন কথা বলে বসলেও, কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। এর ফলে বাচ্চারা নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারবে আপনার কথাও মনোযোগ সহকারে শুনবে।

দুই সন্তানের মধ্যে তুলনা করবেন না

দুই সন্তানের অভিভাবক হওয়া চ্যালেঞ্জের বিষয়। ক্ষেত্রে দুই সন্তানের প্রতিই সমান মনোভব পোষণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়। কাউকে কারও সঙ্গে তুলনা করবেন না বা ভেদাভেদ সৃষ্টি হতে পারে এমন কিছু বলে বসবেন না। উভয়কেই এক সমান ভালোবাসুন যত্ন দিন।

 

লাগাতার সহযোগিতা করে যান

বর্তমানে বাচ্চাদের সমস্ত মনঃস্থিতি বুঝে ওঠা কঠিন হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নিতে পারেন।

ইতিবাচক কথা বলুন

সন্তান মা-বাবার সঙ্গে প্রায়ই কথা বলতে চায়। তাই, তাদের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলুন। এতে ভালোবাসা যত্ন উভয়েরই ছোঁয়া থাকে, সে দিকে লক্ষ্য রাখবেন। শুধু কথা বলার জন্য কথা বলবেন না, বরং ইতিবাচক ব্যবহারের সঙ্গে তাদের সময় দিন।

 

ইন্টারনেটে সঠিক ব্যবহারের প্রতি নজর রাখুন

আজকাল সমস্ত বাচ্চাই ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকে। তবে বাচ্চারা এখানে কী দেখছে, কী সার্চ করছে, সে সবের প্রতি নজর রাখা উচিত।

 

ভারসাম্য বজায় রাখুন

বাচ্চাদের চাহিদা পূরণ করতে করতে অভিভাবকরা নিজের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করে উঠতে পারেন না। পরবর্তীকালে কারণে অভিভাবকরা রেগে যান এবং সেই রাগ গিয়ে পড়ে সন্তানের ওপর। এর ফলেও সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বাচ্চার নিজের চাহিদা, আশা-আকাঙ্খা পূরণের মধ্যে ভারসাম্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।

বাচ্চার রোল মডেল আপনিই

বাচ্চারা যে হেতু মা-বাবার ব্যবহারই অনুসরণ করে, তাই ভুলেও বাচ্চাদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করবেন না বা এমন কোনও কথা বলে বসবেন না, যা আপনারা নিজেরাই বাচ্চাদের কাছ থেকে প্রত্যাশা করেন না। তাই বাচ্চাদের জন্য রোল মডেল হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

পরাজয় স্বীকার করবেন না

সন্তানের প্রতি নিজের বিশ্বাস প্রত্যাশা কখনও ত্যাগ করবেন না। সন্তানের তরফে কোনও বিপরীত পরিস্থিতির মুখে পড়লেও, তাদের সঠিক পথে আনার চেষ্টা করে যান। পরাজয় স্বীকার করে নেওয়া কোনও সমস্যার সমাধান হতে পারে না।

Powered by Blogger.